Dhaka ০৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে ডুয়েটে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ১১৫ Time View

প্রান্তিক প্রতিবেদন

গাজীপুরের ডুয়েট ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৭ মে) দিনভর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও উত্তেজনার ঘটনায় অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার শিক্ষক থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।

রোববার সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে “রেড কার্ড” কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এ সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে পুলিশের সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ চলাকালে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ভবনের সামনে ভাঙচুর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং দৌড়ঝাঁপের দৃশ্য দেখা যায়। আহতদের গাজীপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, “ডুয়েটের নিজস্ব একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা রয়েছে। বাইরের কাউকে ভিসি হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তারা অবিলম্বে নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

এর আগে শুক্রবারও শিক্ষার্থীরা গাজীপুরের শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সংযোগ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রোববারের কর্মসূচিতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা হামলার বিচার ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঘটনাটি দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ডুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সংঘর্ষের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে ডুয়েটে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫

Update Time : ১০:২৫:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

প্রান্তিক প্রতিবেদন

গাজীপুরের ডুয়েট ক্যাম্পাসে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৭ মে) দিনভর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও উত্তেজনার ঘটনায় অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের পর পুরো ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার শিক্ষক থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।

রোববার সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে “রেড কার্ড” কর্মসূচি পালন শুরু করেন। এ সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে পুলিশের সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ চলাকালে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ভবনের সামনে ভাঙচুর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং দৌড়ঝাঁপের দৃশ্য দেখা যায়। আহতদের গাজীপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, “ডুয়েটের নিজস্ব একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা রয়েছে। বাইরের কাউকে ভিসি হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তারা অবিলম্বে নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

এর আগে শুক্রবারও শিক্ষার্থীরা গাজীপুরের শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সংযোগ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রোববারের কর্মসূচিতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে ছাত্রদলের স্থানীয় নেতারা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা হামলার বিচার ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঘটনাটি দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ডুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও সংঘর্ষের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে।