আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শান্তিরক্ষা মিশনের প্রত্যয়, শহীদ শান্তিরক্ষীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
স্টাফ রিপোর্টার- প্রান্তিক।
বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন হবে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শুধু দেশের সুনামই বয়ে আনছেন না, বরং বিশ্বশান্তি ও মানবিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রেখে চলেছেন।
বুধবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তাদের ত্যাগ প্রমাণ করে, বাংলাদেশ শুধু নিজের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, জাতিসংঘের পতাকাতলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাতেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতেই একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে শহীদ হওয়া সামরিক ও বেসামরিক সদস্যদের স্মরণ করেন এবং আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতিও গভীর সম্মান জানান। তিনি বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে আক্রান্ত অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা সাহস, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার শান্তিরক্ষী বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত রয়েছেন এবং এ পর্যন্ত বহু সদস্য দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে শান্তিরক্ষা মিশনের চরিত্র বদলে যাচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদেরও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু কূটনৈতিক মর্যাদাই বাড়ায় না, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সামরিক দক্ষতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
এবারের আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দিবসটি বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ২৯ মে পালিত হলেও ঈদুল আজহার ছুটির কারণে বাংলাদেশে এ বছর ১০ জুন রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিশ্বশান্তির জন্য বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে। আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমন্বিত করে আমরা ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করব।”
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, মানবিক সংকট এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
স্টাফ রিপোর্টার- প্রান্তিক। 


















