Dhaka ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের সভাপ্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পর্যালোচনা, গঠন হলো বিশেষজ্ঞ কমিটি


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং তিস্তা অববাহিকার কৃষি ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বহু প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় তিস্তা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি, নদীভাঙন ও অববাহিকার পরিবেশগত সংকট নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তা অববাহিকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যুগান্তকারী আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।


বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন
মহাপরিকল্পনাটি বৈজ্ঞানিক ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত কারিগরি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের নকশায় কিছু পরিবর্তন এনে প্রকল্পটিকে আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় বন্যা ও নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।


নদী খনন ও ভূমি পুনরুদ্ধার

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (BWDB) সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় তিস্তা নদীর ১১০ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিং করা হবে। নদীর গভীরতা ৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১০ মিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণ সক্ষমতা বাড়বে এবং নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
এ ছাড়া নদীগর্ভ থেকে প্রায় ১৭০ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, যা কৃষি, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।


চীনের সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি বন্ধুভাবাপন্ন দেশ চীন–এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চীনের একটি প্রতিনিধি দল মাঠপর্যায়ে স্থানীয় মানুষের মতামত সংগ্রহ ও সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে উত্তরাঞ্চলে যে মরুকরণ ও সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই মাস্টারপ্ল্যান সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
তিনি বলেন, নদীভাঙনে মানুষের গৃহহীন হওয়া কমবে, সংরক্ষিত পানির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ নির্বিঘ্ন হবে এবং নদীর দুই তীরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান, প্রধান সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

২৫ বছর কারাভোগের পর মুক্তি, দেড় মাসের মাথায় গুলিবিদ্ধ ‘কাইল্লা পলাশ’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের সভাপ্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পর্যালোচনা, গঠন হলো বিশেষজ্ঞ কমিটি

Update Time : ০৪:৩৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং তিস্তা অববাহিকার কৃষি ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বহু প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় তিস্তা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি, নদীভাঙন ও অববাহিকার পরিবেশগত সংকট নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তা অববাহিকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যুগান্তকারী আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।


বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন
মহাপরিকল্পনাটি বৈজ্ঞানিক ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত কারিগরি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের নকশায় কিছু পরিবর্তন এনে প্রকল্পটিকে আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় বন্যা ও নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।


নদী খনন ও ভূমি পুনরুদ্ধার

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (BWDB) সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় তিস্তা নদীর ১১০ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিং করা হবে। নদীর গভীরতা ৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১০ মিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণ সক্ষমতা বাড়বে এবং নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
এ ছাড়া নদীগর্ভ থেকে প্রায় ১৭০ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, যা কৃষি, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।


চীনের সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি বন্ধুভাবাপন্ন দেশ চীন–এর কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চীনের একটি প্রতিনিধি দল মাঠপর্যায়ে স্থানীয় মানুষের মতামত সংগ্রহ ও সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে উত্তরাঞ্চলে যে মরুকরণ ও সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই মাস্টারপ্ল্যান সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
তিনি বলেন, নদীভাঙনে মানুষের গৃহহীন হওয়া কমবে, সংরক্ষিত পানির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ নির্বিঘ্ন হবে এবং নদীর দুই তীরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান, প্রধান সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা