Dhaka ১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যায় নিহত ৫৪ জনের বেশির ভাগই পাহাড়ধসে: দুর্যোগমন্ত্রী

দুর্গত এলাকায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩২৫০ টন চাল বরাদ্দ, পুনর্বাসনে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক-দৈনিক প্রান্তিক।

দেশের আট জেলায় চলমান বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই পাহাড়ধসের ঘটনায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবার বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্গত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পিডবোট ও রাবারের নৌকা পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ

ত্রাণমন্ত্রী জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দুর্গত এলাকার পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়কগুলোও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কাঁচা সড়কগুলো কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।

খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে

মন্ত্রী বলেন, দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন খাদ্য সংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার বিশেষ নজর রাখছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্গত এলাকাগুলোতে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। আমি নিজেও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করব।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও বন্যায় চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের কাজও চলছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানিসম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে স্কুলছাত্র অপহরণ, রাতভর অভিযানে উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৫

বন্যায় নিহত ৫৪ জনের বেশির ভাগই পাহাড়ধসে: দুর্যোগমন্ত্রী

Update Time : ১০:০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দুর্গত এলাকায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩২৫০ টন চাল বরাদ্দ, পুনর্বাসনে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক-দৈনিক প্রান্তিক।

দেশের আট জেলায় চলমান বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই পাহাড়ধসের ঘটনায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবার বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্গত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পিডবোট ও রাবারের নৌকা পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ

ত্রাণমন্ত্রী জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দুর্গত এলাকার পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়কগুলোও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কাঁচা সড়কগুলো কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।

খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে

মন্ত্রী বলেন, দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন খাদ্য সংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার বিশেষ নজর রাখছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্গত এলাকাগুলোতে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। আমি নিজেও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করব।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস ও বন্যায় চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের কাজও চলছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানিসম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।