Dhaka ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য-

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে স্থানীয় পুলিশ সর্বাত্মক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গৃহকর্তা মো. ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। নিহতদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে দেখা গেলেও শনিবার সকালে ঘরের ভেতরে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরে শিশুদের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অন্যদিকে শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ আলাদা স্থানে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের বিভৎস দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফোরকানের পরিবারে অশান্তি চলছিল। পেশায় ট্রাকচালক ফোরকান দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতেন এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগে থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ফোরকানের ব্যক্তিজীবন নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পরকীয়া সম্পর্ক গোপন রাখাকে কেন্দ্র করেও বিরোধ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এমনকি নিজের স্ত্রীকে ফাঁসাতে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
কাপাসিয়া থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ফোরকান মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে জানান যে তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে পলাতক ফোরকানকে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন— কী এমন কারণে একজন বাবা নিজের পরিবারকে এত নির্মমভাবে হত্যা করতে পারেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য-

Update Time : ০৬:০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে স্থানীয় পুলিশ সর্বাত্মক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত গৃহকর্তা মো. ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসা থেকে পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। নিহতদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান। শুক্রবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিকভাবে দেখা গেলেও শনিবার সকালে ঘরের ভেতরে পাঁচজনের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরে শিশুদের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অন্যদিকে শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ আলাদা স্থানে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের বিভৎস দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফোরকানের পরিবারে অশান্তি চলছিল। পেশায় ট্রাকচালক ফোরকান দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতেন এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগে থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ফোরকানের ব্যক্তিজীবন নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পরকীয়া সম্পর্ক গোপন রাখাকে কেন্দ্র করেও বিরোধ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এমনকি নিজের স্ত্রীকে ফাঁসাতে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
কাপাসিয়া থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার পর ফোরকান মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে জানান যে তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে পলাতক ফোরকানকে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন— কী এমন কারণে একজন বাবা নিজের পরিবারকে এত নির্মমভাবে হত্যা করতে পারেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।