Dhaka ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোঃ রায়হান উদ্দিন খাঁন : শেকড় ছুঁয়ে উঠে আসা এক আলোকিত অভিযাত্রা

গাজীপুর সদরে পিরুজালী গ্রাম। সবুজে মোড়া শান্ত এক জনপদ, যেখানে ভোরের শিশির এখনো ঘাসের ডগায় স্বপ্ন হয়ে ঝুলে থাকে, সন্ধ্যার বাতাসে ভেসে আসে মাটির গন্ধ আর মানুষের সরল জীবনের গল্প। সেই গ্রামের মাটিতেই জন্ম নিয়েছিলেন মোঃ রায়হান উদ্দিন খাঁন— যিনি আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে নিজের জনপদকে গৌরবান্বিত করেছেন।

শৈশবের প্রথম পাঠ শুরু হয়েছিল পিরুজালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গ্রামের সহজ-সরল পরিবেশ, পারিবারিক শাসন ও শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের মধ্য দিয়েই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর পিতা মরহুম ওয়াজেদ আলী খাঁন ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকতা তাঁর কাছে ছিল শুধু জীবিকা নয়, বরং মানুষ গড়ার এক নীরব সাধনা। সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার যে শিক্ষা তিনি সমাজে ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেই আদর্শের আলোই সন্তান মোঃ রায়হান উদ্দিন খাঁনের জীবনগঠনের ভিত হয়ে ওঠে।
প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন ভাওয়াল মির্জাপুর হাজী জমির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, শান্ত স্বভাবের ও আত্মনিবেদিত। সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছেও তিনি ছিলেন বিনয়ী, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং সম্ভাবনাময় একজন শিক্ষার্থী।
পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ। দেশের অন্যতম স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠ থেকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিস্তৃত জ্ঞানচর্চা, চিন্তার গভীরতা ও আত্মপ্রত্যয় তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে।
জীবনের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আজ তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের “পার্সোনাল-১” শাখায় অ্যাডিশনাল ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশ প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন, বদলি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর অবস্থান নিঃসন্দেহে পিরুজালী গ্রামের মানুষের জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়।
দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, সততা ও মানবিকতার কারণে তিনি সহকর্মীদের মাঝেও সম্মানিত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কঠোর বাস্তবতার মাঝেও তিনি বহন করে চলেছেন একজন গ্রামীণ মানুষের বিনয় ও মমত্ববোধ। উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয়েও নিজের শেকড়কে স্মরণে রাখা মানুষদের সংখ্যা আজ খুব বেশি নয়; মোঃ রায়হান উদ্দিন খাঁন তাঁদেরই একজন।
একটি গ্রামের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার কৃতী সন্তানরা। কারণ তাঁদের অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। পিরুজালীর কোনো কিশোর যখন শুনে— এই গ্রামেরই একজন মানুষ দেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন, তখন তার বুকেও জন্ম নেয় নতুন আশা। সে বুঝতে শেখে, গ্রামের মাটিও মানুষকে আকাশ ছোঁয়ার সাহস দিতে পারে।
আজকের এই অস্থির ও মূল্যবোধের সংকটময় সময়ে মোঃ রায়হান উদ্দিন খাঁনের জীবন যেন নীরব এক বার্তা বহন করে— সততা কখনো পরাজিত হয় না, দায়িত্ববোধ কখনো বৃথা যায় না। মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার পদমর্যাদায় নয়, বরং তার কর্ম, আদর্শ ও মানবিকতায়।
তাঁর এই গৌরবময় অর্জনে দৈনিক ‘প্রান্তিক’ পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। প্রান্তিক পরিবার বিশ্বাস করে, তাঁর সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ভবিষ্যতেও দেশের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে তাঁর জীবনসংগ্রাম, মূল্যবোধ ও সাফল্যের অভিযাত্রা নতুন প্রজন্মকে সৎ, মানবিক ও আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রেরণা জোগাবে।