Dhaka ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তবু লিখে প্রান্তিক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ১৯ Time View

নিশ্বাসে ভারী এই ভূখণ্ডে— রাষ্ট্রের নামে, রাজনীতির নামে, সভ্যতার দীর্ঘ ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই জনপদে— সময় যেন ধীরে ধীরে জমে উঠেছে ধুলোমাখা শূন্যতায়। বাতাসে ভেসে বেড়ায় ভাঙা স্বপ্নের গন্ধ, নিঃশব্দ কান্নার অদৃশ্য প্রতিধ্বনি। যতবার সৌন্দর্য, সত্য কিংবা মানুষের পক্ষে কিছু নির্মাণ করতে চেয়েছি আমরা— ঠিক ততবারই দুঃখ এসে দাঁড়িয়েছে অচল পাহাড় হয়ে। মৃত স্মৃতিরা শুকিয়ে দিয়েছে আমার কলমের কালি; নির্মম বাস্তবতা ধারালো ছুরির মতো বিদ্ধ করেছে কল্পনার কোমল শরীর।


তবু প্রান্তিক লিখে যায়।
তবু শূন্যতার বুক চিরে রেখা টানে প্রান্তিক— কখনো দ্রোহে, কখনো প্রেমে, কখনো নিঃসঙ্গতার গভীর নীল অন্ধকারে। কারণ লেখালেখি আমার কাছে নিছক প্রকাশ নয়; এটি প্রতিরোধ, এটি আশ্রয়, এটি আত্মার গোপন দর্শন।
স্বপ্ন আর বাস্তবতা কখনো একই বিন্দুতে এসে মেশে না। তারা পাশাপাশি হাঁটে, কিন্তু এক হয় না। কেবল যন্ত্রণার প্রান্তে এসে মানুষ নিজের ভেতর নিজের প্রতিবাদ আবিষ্কার করে। আমি কোনো পতাকার মানুষ নই, কোনো স্লোগানের ভাড়াটে নই। আমি দাঁড়িয়ে থাকি এক অন্তর্গত উপলব্ধির পাশে— বুকভরা নিঃশব্দ হাহাকার নিয়ে। শুন্যের ওপর কল্পনার ঘর বাঁধি, আর সেই শুন্য থেকেই জন্ম নেয় শব্দের মিছিল।
আমার লেখালেখি সেইসব মানুষের জন্য— যারা ভাঙা স্বপ্ন নিয়েও বেঁচে থাকে, যারা নিঃশব্দে কাঁদে অথচ পৃথিবীকে ভালোবাসতে ভোলে না; যারা বিচ্ছেদ, বেদনা আর অসমাপ্ত প্রেমকে রূপ দেয় প্রতিরোধে। আমি বুঝে গেছি, সবচেয়ে গভীর উচ্চারণ অনেক সময় উচ্চকণ্ঠ নয়— বরং একটি দীর্ঘ নীরবতা; যেখানে ব্যথা আর সত্য একে অপরকে জড়িয়ে থাকে অবিচ্ছেদ্য আলিঙ্গনে।
এই দেশ শুধু মানচিত্রের মাটি নয়— এটি স্মৃতির স্তূপ, মানুষের গল্প, রক্তাক্ত ইতিহাস, অসমাপ্ত শোকের দীর্ঘ উপাখ্যান। তাই আমি লিখে যাই— পৃথিবী বদলে দেওয়ার অহংকারে নয়; কেবল মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য, ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কেউ একদিন স্বপ্ন দেখেছিল।
অনির্বচনীয় সেই স্বপ্নের ভেতর দাঁড়িয়ে এখনও অযাচিত জীবনের গল্প লিখে যাই— রুদ্রের আকাশের ঠিকানায়, এক অনন্ত চিঠি—–

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

তবু লিখে প্রান্তিক

Update Time : ১২:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

নিশ্বাসে ভারী এই ভূখণ্ডে— রাষ্ট্রের নামে, রাজনীতির নামে, সভ্যতার দীর্ঘ ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই জনপদে— সময় যেন ধীরে ধীরে জমে উঠেছে ধুলোমাখা শূন্যতায়। বাতাসে ভেসে বেড়ায় ভাঙা স্বপ্নের গন্ধ, নিঃশব্দ কান্নার অদৃশ্য প্রতিধ্বনি। যতবার সৌন্দর্য, সত্য কিংবা মানুষের পক্ষে কিছু নির্মাণ করতে চেয়েছি আমরা— ঠিক ততবারই দুঃখ এসে দাঁড়িয়েছে অচল পাহাড় হয়ে। মৃত স্মৃতিরা শুকিয়ে দিয়েছে আমার কলমের কালি; নির্মম বাস্তবতা ধারালো ছুরির মতো বিদ্ধ করেছে কল্পনার কোমল শরীর।


তবু প্রান্তিক লিখে যায়।
তবু শূন্যতার বুক চিরে রেখা টানে প্রান্তিক— কখনো দ্রোহে, কখনো প্রেমে, কখনো নিঃসঙ্গতার গভীর নীল অন্ধকারে। কারণ লেখালেখি আমার কাছে নিছক প্রকাশ নয়; এটি প্রতিরোধ, এটি আশ্রয়, এটি আত্মার গোপন দর্শন।
স্বপ্ন আর বাস্তবতা কখনো একই বিন্দুতে এসে মেশে না। তারা পাশাপাশি হাঁটে, কিন্তু এক হয় না। কেবল যন্ত্রণার প্রান্তে এসে মানুষ নিজের ভেতর নিজের প্রতিবাদ আবিষ্কার করে। আমি কোনো পতাকার মানুষ নই, কোনো স্লোগানের ভাড়াটে নই। আমি দাঁড়িয়ে থাকি এক অন্তর্গত উপলব্ধির পাশে— বুকভরা নিঃশব্দ হাহাকার নিয়ে। শুন্যের ওপর কল্পনার ঘর বাঁধি, আর সেই শুন্য থেকেই জন্ম নেয় শব্দের মিছিল।
আমার লেখালেখি সেইসব মানুষের জন্য— যারা ভাঙা স্বপ্ন নিয়েও বেঁচে থাকে, যারা নিঃশব্দে কাঁদে অথচ পৃথিবীকে ভালোবাসতে ভোলে না; যারা বিচ্ছেদ, বেদনা আর অসমাপ্ত প্রেমকে রূপ দেয় প্রতিরোধে। আমি বুঝে গেছি, সবচেয়ে গভীর উচ্চারণ অনেক সময় উচ্চকণ্ঠ নয়— বরং একটি দীর্ঘ নীরবতা; যেখানে ব্যথা আর সত্য একে অপরকে জড়িয়ে থাকে অবিচ্ছেদ্য আলিঙ্গনে।
এই দেশ শুধু মানচিত্রের মাটি নয়— এটি স্মৃতির স্তূপ, মানুষের গল্প, রক্তাক্ত ইতিহাস, অসমাপ্ত শোকের দীর্ঘ উপাখ্যান। তাই আমি লিখে যাই— পৃথিবী বদলে দেওয়ার অহংকারে নয়; কেবল মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য, ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কেউ একদিন স্বপ্ন দেখেছিল।
অনির্বচনীয় সেই স্বপ্নের ভেতর দাঁড়িয়ে এখনও অযাচিত জীবনের গল্প লিখে যাই— রুদ্রের আকাশের ঠিকানায়, এক অনন্ত চিঠি—–