Dhaka ০৩:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশকে আর যেন জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা না যায়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৩৯ Time View

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি যেন পুলিশ বাহিনীকে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে। তিনি এ বিষয়ে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস-এ পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত রাজারবাগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়ে শত শত সদস্যকে হত্যা করেছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, “শুধু স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদ পুলিশ সদস্যদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আমরা যেন আবারও অঙ্গীকার করি—কোনো স্বৈরাচার আর কখনো পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে।”
তারেক রহমান বলেন, “একদিকে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অন্যদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ—এই দুই ঘটনা স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙালিকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের পথে এগিয়ে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন পূর্ববাংলায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক সেনা ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগে একত্রে রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে কী রাজনৈতিক বা কৌশলগত কারণ ছিল—তা গবেষণার বিষয় হতে পারে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।”
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের ভোটে গঠিত বর্তমান সরকার মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের নির্যাতন-নিপীড়নের পর মানুষ এখন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন চায়, আর সেই প্রত্যাশা পূরণে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা, সাহসিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পুলিশকে আর যেন জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা না যায়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ১২:১২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শক্তি যেন পুলিশ বাহিনীকে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে। তিনি এ বিষয়ে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস-এ পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত রাজারবাগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়ে শত শত সদস্যকে হত্যা করেছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব পুলিশ সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, “শুধু স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদ পুলিশ সদস্যদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আমরা যেন আবারও অঙ্গীকার করি—কোনো স্বৈরাচার আর কখনো পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে।”
তারেক রহমান বলেন, “একদিকে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অন্যদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ—এই দুই ঘটনা স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙালিকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের পথে এগিয়ে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন পূর্ববাংলায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক সেনা ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগে একত্রে রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে কী রাজনৈতিক বা কৌশলগত কারণ ছিল—তা গবেষণার বিষয় হতে পারে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।”
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের ভোটে গঠিত বর্তমান সরকার মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের নির্যাতন-নিপীড়নের পর মানুষ এখন নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবন চায়, আর সেই প্রত্যাশা পূরণে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা, সাহসিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।